Headline :
আরও আধুনিক ও সুসংহত করব সীমান্ত বাহিনীকে- প্রধানমন্ত্রী যারা আমার সঙ্গে ছিলেন না তারাও নিরাপদে থাকবেন- এমপি নয়ন ভোলা কিচেন মার্কেটে নারী ও পুত্রকে মারধর, বিচারের দাবিতে মানববন্ধন নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনে গণমিছিল ও জনসভায় মুখর ভোলা বৈষম্যহীন সমাজ সমাজ গড়াই আমাদের লক্ষ্য: ভোলা-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী ফজলুল করিম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ভোলার ৫২৫ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৩১টি ঝুঁকিপূর্ণ, থাকছে বাড়তি নিরাপত্তা ভোলা সদর আসনে বিজয়ী হলে চাঁদাবাজমুক্ত পরিবেশ ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো — ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ভোলা সদর-১ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত আমার শৈশব কেটেছে দুরন্তপনা আর উচ্ছাসে- মহিউদ্দিন মহিন নির্বাচনী প্রচারে বাবার পাশে পার্থ’র মেয়ে মাহামা, ভোট চাইলেন গরুর গাড়ি মার্কায়

বৈষম্যহীন সমাজ সমাজ গড়াই আমাদের লক্ষ্য: ভোলা-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী ফজলুল করিম

ডেস্ক রিপোর্ট / ৮১ Time View
Update : সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুফতি মাওলানা মো. ফজলুল করিম বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

সংবাদদাতা কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

জেলা জামায়াত সূত্র জানায়, মুফতি মাওলানা মো. ফজলুল করিম ১৯৫৭ সালে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুতুবা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড লক্ষ্মীপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত আলেম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা মরহুম মাওলানা মো. আব্দুল মান্নান ও আয়শা বেগম দম্পতির সাত সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ।

তিনি বোরহানউদ্দিন ফাজিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল সম্পন্ন করে বোরহানউদ্দিন কামিল মাদ্রাসা থেকে আলিম, ফাজিল ও হাদিস বিভাগ থেকে কামিল পাশ করেন। পরবর্তীতে বরিশালের সাগরদী আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ফিকাহ শাস্ত্রে কামিল ডিগ্রি অর্জন করেন।

দীর্ঘ ৪৩ বছর ভোলা দারুল হাদিস কামিল মাদ্রাসায় শিক্ষকতা শেষে তিনি সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে অবসর গ্রহণ করেন। তার রাজনৈতিক জীবনে তিনি ইসলামী রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৪ সালে তিনি জামায়াতে ইসলামীর শূরা সদস্য মনোনীত হন। এছাড়া তিনি ভোলা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর ছিলেন। বর্তমানে তিনি দলটির কেন্দ্রীয় গবেষণা সেলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত এই প্রার্থী আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ে তার পরিকল্পনা জানতে এই সংবাদদাতা মুখোমুখি হন জামায়াতে ইসলামীর এই প্রার্থীর। তার আগামীর মিশন ও ভিশন নিয়ে সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন এই সংবাদদাতা।

সংবাদদাতা: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?

মো. ফজলুল করিম: ভোলা-২ আসনটি নদীভাঙনকবলিত একটি বিস্তীর্ণ ও অবহেলিত জনপদ। এখানকার মানুষের জীবনমান অত্যন্ত হতাশাজনক। প্রধান সমস্যা নদীভাঙন। আমি নির্বাচিত হলে সর্বপ্রথম স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে নদীভাঙন প্রতিরোধে কাজ করব। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা গেলে এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

সংবাদদাতা: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?

মো. ফজলুল করিম: আমাদের নেতাকর্মীরা নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে অত্যন্ত সচেষ্ট। দলের কেন্দ্রীয় আমীর ডা. শফিকুর রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সবাই আচরণবিধি মেনে চলছেন। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে আমরা নিয়মিত মনিটরিং টিমের মাধ্যমে বিষয়টি তদারকি করছি।

সংবাদদাতা: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?

মো. ফজলুল করিম: জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমরা একটি মুক্ত বাংলাদেশ পেয়েছি। বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অসংখ্য ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছেন ও আহত হয়েছেন। সেই আত্মত্যাগকে জীবিত রাখতেই জুলাই সনদ। আমরা শুরু থেকেই জুলাই সনদে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ছিলাম, আছি এবং থাকবো।

সংবাদদাতা: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার প্রত্যাশা কী?

মো. ফজলুল করিম: আল্লাহ চাইলে জনগণ যদি আমাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে ইসলামের সোনালী যুগের শাসকদের মতো ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক শাসন কায়েমের চেষ্টা করব। আমার এলাকার মানুষ যেন বৈষম্যহীন, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি ইনসাফের রাষ্ট্র দেখতে পান—এই প্রত্যাশাই আমি ধারণ করি।

উল্লেখ্য, দ্বীপজেলা ভোলার দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন উপজেলা নিয়ে গঠিত ভোলা-২ আসন। সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী (জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত) এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৫৪৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬ হাজার ৪৩৩ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার ১১২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ জন।

এই আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনটি দলের তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন— বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে হাফিজ ইব্রাহিম, জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মুফতি মাওলানা মো. ফজলুল করিম এবং এলডিপি মনোনীত ছাতা প্রতীকে মোফাক্কার চৌধুরী।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category